বাংলা সদবার একাদশী নাটকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর পর্ব তৃতীয়

প্রশ্ন : সধবার একাদশী' নাটকে দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম গর্ভাঙ্কের দৃশ্যপটটি কি?
উত্তর : 'সধবার একাদশী' নাটকে দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম গর্ভাঙ্কের দৃশ্যপট কাঁশারি পাড়ায় কুমুদিনীর শয়নঘর।

প্রশ্নঃ কুমুদিনী ও সৌদামিনী কে?
উত্তর : অটলবিহারীর স্ত্রী হন কুমুদিনী এবং অটলবিহারীর ভগ্নী হল সৌদামিনী।

বাংলা সদবার একাদশী নাটকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর তৃতীয় পর্ব

প্রশ্নঃ “এর চেয়ে বিধবা হয়ে থাকা ভাল”–কে কেন এই মন্তব্য করেছেন?
উত্তর : কুমুদিনী অটলবিহারীর স্ত্রী হয়েও সে স্বামীসুখ বঞ্চিতা এবং তাই জন্য সে অপমানিত। এই অপমানিত হবার কারণেই সে বিধবা হয়ে থাকতে চেয়েছে।

প্রশ্নঃ “তুই সে ভাতার কামড়া”—কে, কাকে একথা বলেছে? ‘ভাতার কামড়া’ কথাটি কেন ব্যবহার হয়েছে?
উত্তর : প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি কুমুদিনী সৌদামিনীকে করেছে। ‘ভাতার কামড়া' শব্দের অর্থ স্বামীকে নিবিড়ভাবে ভালবাসা। সৌদামিনীর কপালে স্বামী সোহাগ জুটলেও কুমুদিনীর কপালে জোটেনি। তাই মন্তব্যটি করেছেন।

প্রশ্নঃ : “তোর আজগবি সাধ দেখে আর বাঁচি নে”–কে কাকে বলেছে? ‘আজগবি সাধ’ টি কি?
উত্তর : প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি কুমুদিনী সৌদামিনীকে বলেছে।
সৌদামিনীর সাধ ছিল সৌদামিনীর স্বামী মদ্যপান করে গৃহে আসবে এবং বাইরে বেশ্যা রাখবে। এইকথা শুনে কুমুদিনী প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।

প্রশ্নঃ 'ও ভাই কলেজে পড়ার দোষ'-'কলেজে পড়ার দোষ' টি কি?
উত্তর : সেকালে সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল, কলেজে পড়লে এবং ইংরাজি শিখলে ছেলেরা নানারকম কুঅভ্যাসে রপ্ত হয়। যেমন—মদ্যপান, বেশ্যাবাড়ি গমন এবং ঠাকুর দেবতায় বিশ্বাস না করা। অটলের মধ্যে এই অভ্যাসগুলি দেখা দিয়েছিল বলেই সৌদামিনী এই মন্তব্য করেন।

প্রশ্নঃ : 'গৌরমোহন আড়ডির স্কুলে দিন দুই একখান বয়ের পাত উলটিচ্‌লো” গৌরমোহন আড়ডি'র স্কুলের বর্ণনা দাও।
উত্তর : ১২৯ খ্রীঃ সুবর্ণ বনিক গৌরমোহন আঢ্য তৎকালীন চিৎপুরে একটি ইংরেজি বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা করেন। এই স্কুলটি লোক মুখে গৌরমোহন আড়ডির স্কুল বলে প্রচারিত ছিল। এখানে তারই কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্নঃ : “এরা কি মাগ্‌কে ঘরে একা রেখে বাগনে কাঞ্চনকে নিয়ে আমোদ করে”—বক্তা কে? 'এরা কারা?
উত্তর : বক্তা এখানে কুমুদিনী, ‘এরা’ হল–চন্দ্রবাবু, 'বিরাজের স্বামী এবং গোকুলচন্দ্র।

প্রশ্নঃ : “ছোট খুড়ীর ব্যারাম হলে গোকুল কাকা কতদিন হৌসে যায়নি?”
উত্তর : ছোট খুড়ীর ব্যারাম হলে গোকুলকাকা সাতদিন হৌসে যায়নি।

প্রশ্নঃ : “তুই ভাই নিয়ে খুব টানতে পারিস” –বক্তা কে? প্রসঙ্গটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর : বক্তা এখানে সৌদামিনী।
কুমুদিনী এবং সৌদামিনী দু'জনে কাঞ্চনের দৈহিক গঠন নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করছিল। তারই মাত্রা কুমুদিনী বৃদ্ধি করায় সৌদামিনী এই উক্তি করেছেন।

প্রশ্নঃ : অটলবিহারী কাঞ্চনের বাড়িতে নিয়ে এলে কি রকম প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর : কুমুদিনী অনুপস্থিতিতে অটলবিহারী বেশ্যা কাঞ্চনকে বাড়ি নিয়ে এসে মদ খেয়ে গলা ধরে বারান্দায় নাচতে থাকে। ও বাড়ীর বড় কাকা রেগে কাঞ্চনকে বাড়ী থেকে বার করে দিলে। কাঞ্চন অটলকে গালাগাল দিয়ে অটলের বাবা কর্তৃক কাঞ্চনকে পুনরায় আনার শপথ করিয়ে সে বেরিয়ে গেল।

প্রশ্নঃ : “সে বেটী কসবি”—'কসবি' কথার অর্থ কি?
উত্তর : ‘কসবি’ কথার অর্থ বেশ্যা।

প্রশ্নঃ : ‘কাঞ্চনকে ফিরিয়ে আনার জন্য দ্বিতীয় অঙ্কের প্রথম গর্ভাঙ্কে অটলের প্রতিক্রিয়া কি ছিল?
উত্তর : ‘কাঞ্চনকে ফিরিয়ে আনার জন্য অটল গালাগালি দিল, বন্দুক বার করে আত্মহত্যা করার অভিপ্রায় দেখাল। সেই ভয়ে অটলের মা কাঞ্চনকে ফিরিয়ে আনার কথা জীবনচন্দ্রকে বললেন তিনি বাধ্য হন তাকে ফিরিয়ে আনতে।

প্রশ্নঃ 'দাদর চিরুনি দেখে... 'চিরুনি' কথার অর্থ কি?
উত্তর : ‘চিকরুনি' একটি আঞ্চলিক শব্দ। এর অর্থ হল-অসভ্য চীৎকার চেঁচামেচি।

সদবার একাদশী নাটকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর

প্রশ্নঃ “অমল গোপালকে নুন খাইয়ে মাত্তে হয়”-বক্তা কে? 'গোপাল' কে?
উত্তর : বক্তা এখানে কুমুদিনী। ‘গোপাল’ বলতে কুমুদিনী পর স্বামী অটলবিহারীকে বুঝিয়েছেন।

প্রশ্নঃ : তোমার দাদা যে সন্ডামাক্কা'- কে, কাকে বলেছে? ‘ঘণ্ডামাক্কা' বলার তাৎপর্য কি?
উত্তর : প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতটি কুমুদিনী সৌদামিনীকে বলেছে। ষন্ড ও অমর্ক নামে শুক্রাচার্যের দুটি এক গুঁয়ে ছেলে ছিল। তাদের নাম
থেকে এই শব্দ যুগলের সৃষ্টি। এখানে এই অভিধান ব্যবহার করে অটলবিহারীকে জেদী বলা হয়েছে।
প্রশ্ন : ‘ভাবিস্ কি ছাঁ–ই বেরালে মেরেচে'—'বেরাল' কথাটির তাৎপর্য এখানে কি?
উত্তর : ইটি একটি প্রবাদ। এর ইঙ্গিতার্থ হল, কী এক অপোগন্ড মাতালেরই না জন্ম হয়েছে, 'বেরালে' মেরেছে মানে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ধরনের প্রবাদে অটলের চরিত্র পরিষ্কার হয়ে যায়।

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক

প্রশ্নঃ : ‘সধবার একাদশী' নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কের দৃশ্যপটটি কি?
উত্তর : ‘সধবার একাদশী' নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কের দৃশ্যপট ছিল কাঁশারি পাড়ায় অটলের বৈঠকখানা।

প্রশ্নঃ : 'নিমচাঁদ কাঞ্চনকে কি বলে সম্বোধন করে।
উত্তর : নিমচাঁদ কাঞ্চনকে ‘মাসী' বলে সম্বোধন করে।

প্রশ্নঃ : 'এখন আমি তোমার জানি হইচি”–কে কাকে কেন এই কথা বলেছে?
উত্তর : প্রশ্নোক্ত উক্তিটি কাঞ্চন অটলকে করেছে। কারণ, প্রিয়শঙ্কর যখন কাঞ্চনকে সেবাদাসী রাখলো তখন অটল তাকে মাসী বলতো এখন অটল তার ‘জানি' হয়েছে। তাই এই পথের কথাই কাঞ্চন বলেছিল। তার ভয় নিমচাঁদও তাকে ‘মসী' বলে।

প্রশ্নঃ : 'তুমি যে আমার মালিনী মাসি হীরে মালিনী”-বক্তা কেন এই প্রসঙ্গ এনেছেন?
উত্তর : ভারতচন্দ্রের 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যে বিদ্যা এবং সুন্দরের অবৈধ প্রেমের সংযোজিকা ছিল হীরা মালিনী। তার কথার বাঁধুনি এবং ছলচাতুরী ছিল দেখবার মতো। কাঞ্চন ও সেই হীরা মালিনীর মতো বাকপটু তাই বক্তাত এই প্রসঙ্গ এনেছেন।

প্রশ্নঃ : 'দামা, সেজটা সাফ করে'—বক্তা কে? দামা কে? 'সজ' কে? উত্তর : বক্তা অটলবিহারী। দামা অটলবিহারী ভৃত্য। ‘সেজ’ হল কাঁচের ঢাকনা যুক্ত দীপ।

প্রশ্নঃ : “এক এক বৈটার বাবু আছে এমনি কঞ্জুস বাজারে পরতাল দেয়”-বক্তা কে? 'পরতাল' কথার অর্থ কি?
উত্তর : ‘পরতাল' হল কোনো দ্রব্যের হিসেব মত দাম দেওয়া এই ভাবে পরতা করে। দাম দেওয়াকে বলে ‘পরতাল' দেওয়া। অটলের কাছে দামা কোনোদিন পরতাল দেয়নি।

প্রশ্নঃ : বাবু যে মদ ধরেছেন কোটা বলাখানা করে ফেলবো”—প্রসঙ্গটি নির্দেশ করো।
উত্তর : অটলবিহারী মদ্যপ হলে বাস্তববুদ্ধিহীন হয়ে পড়েন। তার ভৃত্যরা টাকা চুরি করে দোতলা পাকা বাড়ি করে ফেলে। 'কোটা বালাখানা' কথার অর্থ পাকা দোতলা বাড়ি। দামার উক্তিতেই তা প্রমান হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ : 'তোমাকে আজ থেকে ইন্ডিয়ান বাইরন্ বলবো – কে, কাকে, কেন এই উক্তি করেছেন?

উত্তর : বিখ্যাত ইংরেজ করি Loord Byron ছিলেন রোমানিটিক যুগের কবি। তৎকালে বাংলাদেশে বায়রন খুবই জনপ্রিয় কবি ছিলেন। তাঁর মত লিখতে পারে যে, সেই বাঙালি কবিকেও বলা হত Indian Byron এখানে অটলের কবিতা শুনে নিমেদত্ত ব্যঙ্গ করে তাকে একথা বলেছেন।
প্রশ্নঃ : ভোলাচাদ কে?
উত্তর : ভোলাচাঁদ হলেন নিমেদত্তর মতোই মদ্যপ এবং অটলবিহারী বন্ধু। তিনি মুক্তেশ্বরবাবুর জামাই।

প্রশ্নঃ “ম্মেল সার, ওডো টম স্মেল্ সার"-বক্তা কে? 'ওল্‌ডো টম' কথার অর্থ কি?
উত্তর : বক্তা এখানে ভোলাচাঁদ।ওডো টম্‌' কথা অর্থ বিদেশী OLDTOM' মদের গন্ধ ।

প্রশ্নঃ “স্মেল সার, কানটি স্মেল সার"-বক্তা কে? কানটি স্নেল' কথার অর্থ কি?
উত্তরঃ বক্তা এখানে ভোটাদ। 'কনটি স্মেল' কথার অর্থ দেশী মদের গন্ধ।

প্রশ্নঃ "মুক্তেশ্বরবাবু অমন বিজ্ঞলোক হয়ে কুর্ম অবতারের হস্তে কন্যাটি প্রদান করেছেন”—‘কুর্ম অবতার' বলার তাৎপর্য কি?

উত্তর : বিষ্ণুর দশাবতারের মধ্যে কুর্ম বা কচ্ছপ একটি অবতার। যার গতি ধীর। এখানে ভোলাচাঁদকে নিমেদত্ত ব্যঙ্গ করে কচ্ছপ বা কুর্ম বলেছে। ভোলার শ্বশুর মুক্তেশ্বর এইরকম একটি লোকের সঙ্গে জেনে শুনে কন্যা দান করলেন কী করে, এটাই একটা বিস্ময়।

প্রশ্নঃ : “গুলি ইজ ভেরি ব্যাড সার”–‘গুলি' কথাটির অর্থ কি? উত্তর : গুলি একটি নেশার বস্তু। এটি খেলে শরীর নষ্ট হয়। গুলি খোরদের সেকালে সমাজে খুব নিন্দা করা হতো। তারা ছিল খুব নিন্দিত চরিত্র।

প্রশ্নঃ : “তুমি বাবু যে বাহার দিয়ে এসেচ”—বক্তা কে? কে, কিরকম ‘বাহার’ দিয়ে এসেছে?

উত্তর : বক্তা এখানে নিমেদত্ত।
ভোলাচাঁদ মাথার মাঝখানে সিতে, গায়ে নীচু হাফ চাপকান জামা, গলার বিলেতি ঢাকাই চাদর, বিদ্যাসাগর পাড়ের ধুতি, হোলমোজা পায়ে মোজা আটকাবার গাডার, ফিতের বদলে রুপোর বকলস, হাতে হাড়ের হ্যান্ডেল বেতের ছড়ি, আঙুলে দুটি আংটি, এই বাহারি পোশাক ছিল ভোলাচাঁদের।

প্রশ্নঃ : “Man being reasonable” উদ্ধৃতাংশটি কোন্ মূল রচনার অন্তর্গত? এর বঙ্গার্থ কি?
উত্তর : এটি বায়রনের ‘ডন জুয়ান' কাব্যের দ্বিতীয় সর্গের ১৭৯ স্তবক থেকে উদ্ধৃত। এর মূল বঙ্গার্থ মানুষ যদি যুক্তির পথে হেঁটে, তা হলে তার উচিত কাজ হবে মদ্যপান করা এবং জীবনকে উপভোগ করতে হলে অবশ্যই নেশা করতে হবে।

প্রশ্নঃ “ছেলেটি বেতরিবৎ নয়”-কে কেন এই উদ্ধৃতটি করেছেন? উত্তর : ভোলা যখন ‘ফাদার ইন ল' নিমচাঁদ ও অটলের সামনে মদ্যপান না করে, তাদের সম্মান জানাতে আড়ালে মদ খেতে চলে গেল, তখন অটলবিহারী বলতে চাইল, ছেলেটি manners জানে, অর্থাৎ 'বেতরিবৎ' বা সহবৎ জানে না এমন মানুষ নয়।

প্রশ্নঃ : "জামাইবাবুর সেইরূপ তরিবৎ”—প্রসঙ্গটির তাৎপর্য কি?
উত্তর : জগন্নাথ দাদা বলরামের সামনে কেলি করতে পারেন না, তেমনী রানীও বিহার করতে পারেন না। ভাসুরের সামনে, তাই তাঁদের সম্মান জানাতে বররামের মুখে কাপড় ঢেকে তারা উভয়েই লীলা করেন। অর্থাৎ জগন্নাথ ভোলাচাঁদের মতো বে তরবিৎ নয়। জগন্নাথও তরিবৎ জানে। তাই স্ত্রী সংসর্গ করার সময় দাদার মুখে কাপড় ঢাকা দেয়।

সদবার একাদশী নাটকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর পর্ব তৃতীয়

প্রশ্নঃ “তোর বাবুর বাড়ী কি আমি আরান্দো খেতে এইচি?”–বক্তা কে? 'আরান্দো' কি?
উত্তর : বক্তা এখানে নিমচাঁদ। 'আরান্দো' কথাক অর্থ জল ঢালা বাসি মদ।

প্রশ্নঃ : “A Danial come to Judgement”—উদ্ধৃতাংশটি কোন্ মূল রচনার অন্তর্গত? এখানে বক্তা কে?
উত্তর : উদ্ধৃতাংশটি শেক্সপীয়ারের “Tne Marchant of venice' নাটকের চতুর্থ অঙ্কের প্রথম দৃশ্য থেকে নেওয়া শাইলকের (Shylock) সংলাপ। এখানে বক্তা নিমেদত্ত।

প্রশ্নঃ“তোর শ্রীপাঠ বিক্রমপুর তরে যাক”- কে, কাকে বলেছে? “শ্রীপাঠ বিক্রমপুর’ কি?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতটি নিমেদত্ত রামমানিক্যকে বলেছে বিক্রমপুর হল ঢাকা জেলায়, এখানে ‘শ্রীপাঠ' বলে বিক্রমপুরকে বৈষ্ণবতীর্থ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিমেদত্ত রামমাণিক্য বাঙাল বলে এই ব্যাঙ্গোক্তি করেছেন।

প্রশ্নঃ : “হোদন্ করে লইচি” বক্তা কে? ‘হোদন' কথার অর্থ কি?
উত্তর : বক্তা এখানে রামমাণিক্য। 'হোদন' কথার অর্থ শোধন (হোদন > শোধন)।

প্রশ্নঃ : “বতোলে কি কিছু রাকচি–“হুকনা”—বক্তা কে? 'হুকনা' কথার অর্থ কি?
উত্তর : বক্তা এখানে রামমানিক্য। 'হুকনা' কথার অর্থ শুকনা। (ছকনা > শুকনা)

প্রশ্নঃ : 'হাঙ্গাল, পুঁটিমাছের কাঙ্গাল..."ছড়াটির বক্তা কে? এর প্রকৃত অর্থ কি?
উত্তর : ছড়াটির বক্তা মদ্যপ ভোলাচাঁদ।
পূর্ববাংলায় পুঁটিমাছ নেই, গঙ্গাজলে অভাব, স্থলপথ নেই, এবং মিষ্টভাষী তারা নয়। এভাবে তৎকালীন সমাজে বাঙ্গালদের কলকাতার লোকেরা বিদ্রুপ করত।

প্রশ্নঃ 'পুঙ্গির পুত কেতা। হিট্‌কাইঢেন”—বক্তা কে? 'পুঙ্গির পুত' এবং ‘হিটকাইচেন' কথার অর্থ কি?
উত্তর : বক্তা রামমানিক্য। 'পুঙ্গির পুত' একটি গালাগালি। 'হিট্‌কাইচেন' কথার অর্থ উত্তেজিত কর।

প্রশ্নঃ : ‘প্যাটপোরে—জাল্‌তো। দগ্‌গো লঙ্কা”-বক্তাকে? ‘জাল্‌তো' এবং 'দগ্‌গো লঙ্কা' কথার অর্থ কি?
উত্তর : বক্তা রামমানিক্য। 'জাল্‌তো এবং দগ্‌গো লঙ্কা'কথার অর্থ যথাক্রমে জ্বলছে এবং দগ্ধ লঙ্কা।

প্রশ্ন : 'এ কি ভুনোর দোকান'—কে, কাকে বলেছে? 'ভুনোর দোকান কথার অর্থ কি?
উত্তর : প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি অটল কামমাণিক্যকে বলেছে। ‘ভুনোর দোকান' হল যে দোকানে ভাজা মুড়ি, মটর বিক্রয় হয়।

প্রশ্ন : রামমাণিক্যর স্ত্রীর নাম কি?
উত্তর : রামমানিক্যর স্ত্রীর নাম ভাগ্যধরী।

প্রশ্নঃ 'বাগ্যদবী বাইবাতার করবে, স্যাও বালো”—বক্তার এই উক্তির মাধ্যমে কোন মানসিকতা ফুটে উঠে?
উত্তর : ভাগ্যধরী অর্থাৎ বাঙ্গাল রামমানিক্যের স্ত্রী ‘ভাইভাতার' করবে, সেও ভালো কিন্তু পরপুরুষকে দেহ দান করবে না। কিন্তু রামমানিক্য যে কতখানি নির্বোধ, এই উক্তিটিই তার প্রমাণ।

প্রশ্ন : “এতো করাও কলকাত্মার মত হবার পারলাম না”—বক্তা কে? কলকাতার মতো হতে চেয়ে সে কি করেছিল?
উত্তর : বক্তা রামমানিক্য। কলকাতার মতো হতে গিয়ে সে বেশ্যাবাড়ী গেছে, স্ত্রীকে চিকন ধুতি পরিয়েছে। গোরার বাড়ির তৈরি বিস্কুট খেয়েছে এবং মদপান করেছে—তবুও তাকে বাঙাল অপবাদ নিয়ে থাকতে হল বলে তার আক্ষেপ।

প্রশ্ন : “Little learning is a ....” কোন্ মূল রচনাংশের উদ্ধৃতি? এর মূল বক্তব্য কি?
উত্তর : এটি কবি Alexander pope-এর An Essay on Criticism' অংশ। এর মূল বক্তব্য অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী।

প্রশ্ন : “কেন ল্যাম্প্রেয়ার আনো দেকি"—'ল্যাম্প্রেয়ার' কথার অর্থ কি?
উত্তর - এটি রেভারেন্ড জন রচিত একটি অভিধান। ১১৮৪-১৪৬১ খ্রীঃ মধ্যবর্তী লেখকদের তালিকা সমৃদ্ধ অভিধান।