বাংলা সদবার একাদশী নাটকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর পর্ব দ্বিতীয়

প্রশ্ন : নিমচাঁদ প্রথম অঙ্কের প্রথম গর্ভাঙ্কে 'মদের গোপাল' বলে সম্বোধন করেছেন কাকে?

উত্তর : নিমচাঁদ প্রথম গর্ভাঙ্কে অটলবিহারকে ‘মদের গোপাল' বলে সম্বোধন করেছেন।

প্রশ্ন : “তোমার হেড্‌টিতে আইরিশ ট্রু হয়”-কে, কাকে বলেছে? ‘আইরিশ স্টু কথা অর্থ কি?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি নিমচাঁদ অটলবিহারীকে বলেছে। বাষ্পে বা ভাবে সিদ্ধ করা মাংস, তরিতরকারি এবং সবজি ইত্যাদি দিয়ে তৈরী এক ধরনের খাদ্য স্টু। এটি আয়ালাল্ডে তৈরী হয় বলে এর নাম ‘আইরিশ স্টু’।

প্রশ্ন : “মডারেটলি খাওয়ার কোন অপকার না”-কে কাকে বলেছে? কথাটির তাৎপর্য কি?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি নকুলেশ্বর অটলবিহারীকে করেছে।
কথাটির তাৎপর্য হলো, পরিমান মতো মদ খাওয়ার কারোর কোনো অসুবিধা হয় না। তাই অটল প্রতিজ্ঞা করলেও নকুলেশ্বর তাকে সেই প্রতিজ্ঞা ভাঙতে বলেছেন। খেতে বলেছেন মিতভাবে।
প্রশ্ন : 'কাঞ্চন অটলের কাছ থেকে কত মাসোহারা চায়?
উত্তর : কাঞ্চন অটলের কাছ থেকে তিনশো টাকা মাসোহারা চায়।

প্রশ্ন : “আমি তোমার সতাত বাপ”–কে, কাকে বলেছে? ‘সতাত’ কথা অর্থ কি?
উত্তর : প্রশ্নোক্ত কথাটি নিমেদত্ত অটলকে বলেছে। 'সতাত' কথার অর্থ সত্ বাবা।

প্রশ্ন : “যা ব্যাটা তুই প্যারিসাইড্‌”—কে কাকে কেন ‘প্যারিসাইড' বলেছেন?

উত্তর : ‘অটলবিহারী সর্বদা পিতার অনুসরণকারী। নিজের কোনো যুক্তিবোধ ও বিচারশক্তি নেই। তাই নিমেদত্ত তাকে 'প্যারসাইড’ বলেছেন। প্যারিসাইড' কথার অর্থ পরগাছা। অটল পরগাছার মতোই। নিজের কোনো ভিত্তিভূমি নেই।

প্রশ্ন : কাঞ্চনের পরিচয় দাও।

উত্তর : কাঞ্চন একজন পতিতা, বেশ্যা। কাব্যের প্রতি তার আকর্ষণ নেই, কোনো কিছুতেই তার মোহ নেই, কাম সাধনার সিদ্ধির ফলে সে সকলকে পিছনে ফেলে গেছে।

প্রশ্ন : “ফেটনাথ্য গাড়ি ঘোড়ি হাঁকিনি/উলসনের ভোগ রাগ ঢাকিনি/ফ্রান্স দেশ জাত মদ্য লোভিনি।" কে কাকে বলেছে? উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।
উত্তর : প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি নিমেদত্ত সৈরিণি কাঞ্চনের প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই বলেছে। কাঞ্চন সৈরিণি হলেও সে বাবুদের ফিটন গাড়িতে (ফেটনাখ্য) চড়ত। কলকাতার অভিজাত হোটেল উইলসনের (উলসন) খাবার খেত এবং অভিজাতদের মতো ফ্রান্স দেশে প্রস্তুত দামী মদ ছাড়া অন্য কিছু পান করত না—তাই এই উক্তির মাধ্যমে সেকালের সমাজের ছবিও ফুটে ওঠে।

প্রশ্ন : "লালমুন্ড হাড়ি সার অঙ্গিনি”– কে কাকে কেন একথা বলেছে?
উত্তর : কাঞ্চন সুন্দরী ছিল না। তাই ‘হাড্‌ডি সার’ বা হাড়জিরজিরেই সম্বল ছিল। মুখটি অতিরিক্ত প্রসাধনে লাল—তাই নিমেদত্ত তাকে ব্যঙ্গ করেই সত্যকথা বলেছে।

প্রশ্ন “দুঃ বেটি কমবক্তি"—বক্তা কে? সে কাকে ‘বেটি' বলেছে? 'কমবক্তি' কথাটির অর্থ কি?

উত্তর : বক্তা নিমেদত্ত কাঞ্চনকে ‘বেটি’ বলেছে। ‘কমবক্তি' কথাটির মূল শব্দ ‘কবখৎ'। এটি আরবী শব্দ। এর অর্থ বোকা বা আহাম্মক।
প্রশ্ন : “অটলবাবু আমার প্রতি বড় নির্দয়"—কে বলেছে? সে অটলবাবুকে নির্দয় বলেছেন কেন?

উত্তর : বক্তা এখানে কাঞ্চন। সে সৈরিনি, তাই ছলা কলায় সে পটু। তাই অটলবাবু অভিজাত বলেই তাকে ছলা কলা করে বলেছে উনি বড় মানুষ। কাঞ্চনের মতো গরীব বাড়িতে গেলে ওর মানে লাগে তাই সে নাচ জানা সমধুর কথা বলতে জানা অন্য সৈরিনির বাড়িতে যায়। এজন্যই কাঞ্চনের দুঃখ।

প্রশ্ন : “পাজি, চাষা, ক্যাডোভেরাস্”-কে কাকে, কেন একথা বলেছে? ‘ক্যাডোডেরাস' কথার অর্থ কি?

উত্তর : নিমেদত্ত যখন অটলকে মদ খাবার কথা বলল অটল তাতে ‘না’ বলেছিল। কিন্তু কাঞ্চন, অটলকে মদ খাবার কথা বললে সে পিতৃসত্য ভুলে মদ পান করল। তখনি নিমেদত্ত রেগে এই কথাগুলি বলেছিল। 'ক্যাডোভেরাস' কথার অর্থ কুৎসিত দর্শন।

প্রশ্ন : “গঙ্গা যমুনা একত্র হয়ে এলাহাবাদ হয়ে পড়ে না"—উক্তিটির তাৎপর্য লেখ।

উত্তর গঙ্গা, যমুনার মিলনস্থল এলাহাবাদ। নিমেদত্ত এখানে বলতে চেয়েছেন কাঞ্চন ও অটল মদ্যপান করে সঙ্গমে লিপ্ত না হয়ে পড়ে। তাই এই উপমা আনা হয়েছে।

প্রশ্ন “কাঞ্চন একটি গান গাও না ভাই”—বক্তা কে? কাঞ্চন কোন গানটি গেয়েছিল? গানটির রাগ ও তাল কি ছিল?

উত্তর : বক্তা এখানে নকুলেশ্বর। কাঞ্চনের গাওয়া গানটি হল—“চলো লো মজনি সবে সরোজ কাননে যাই'। গানটির রাগ ছিল ‘মূলতান' তার ছিল ‘আড়ঠেকা'।

প্রশ্ন “And will be a dunce." বক্তা কে? 'Dunce' কথা অর্থ কি?

উত্তর : বক্তা এখানে নিমেদত্ত।
‘Dunce' কথার অর্থ ‘গবেট’।

প্রশ্ন : অটল কাঞ্চনের সঙ্গে বাগানে কোন্ নাচ নাচতে যাবে বলেছিল?

উত্তর : অটল কাঞ্চনের সঙ্গে বাগানের ‘পালক’ নাচ নাচতে যাবে বলেছিল।
.
প্রশ্ন : “To do a thing which no one do can for her”— বক্তা কে? এর বাংলা অর্থ কী?
উত্তর : বক্তা এখানে নিমেদত্ত। কথা অর্থ (কাঞ্চন) প্রকৃতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে যে কাজটি করতে গেছে তা এমনই এক কাজ, যা তার হয়ে আর কেউ করে নিতে পারবে না।

প্রশ্ন : “If consequence do but...” উদ্ধৃতটি কোন্ মূল রচনাংশের অন্তর্গত? নাটকে এর বক্তা কে?

উত্তর : ‘শেক্সপীয়ারের ‘Othello' নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্যতে ওথেলোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে ইয়াগোর এই উক্তি করেছেন। নাটকে এর বক্তা নিমেদত্ত।

দ্বিতীয় গর্ভাঙ্ক

প্রশ্ন : ‘সধবার একাদশী' প্রহসনের প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কের দৃশ্যপটটি

উত্তর : ‘সধবার একাদশী' প্রহসনের প্রথম অঙ্কের দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কের দৃশ্যপটটি হল চিৎপুর রোডের গোকুলবাবুর বৈঠকখানা।

প্রশ্ন : জীবনচন্দ্র এবং গোকুলচন্দ্র কে?

উত্তর : অটলবিহারীর পিতার নাম জীবনচন্দ্র এবং বুড়শ্বশুরের নাম গোকুলচন্দ্র।

প্রশ্ন : অটলবিহারী কাঞ্চনের জন্য দু'তিন মাসের মধ্যে কত টাকা খরচ করেছে।
উত্তর : অটলবিহারী কাঞ্চনের জন্য দু'তিন মাসের মধ্যে ত্রিশ হাজার টাকা খরচ করেছে।

প্রশ্ন : অটলবিহারী টাকা না পেলে কি কি আচরণ করে বলে জীবনচন্দ্র জানিয়েছেন?

উত্তর : অটলবিহারী টাকা না পেলে জলে ঝাঁপ দিতে চায় এবং চিলের ছাদ থেকে হাত পা ছেড়ে দেয়।

প্রশ্ন : জীবনচন্দ্রের গিন্নির বাক্স জোর করে খুলে অটলবিহারী কি নিয়ে গিয়েছিল?

উত্তর : জীবনচন্দ্রের গিন্নির বাক্স জোর করে খুলে অটলবিহারী দশ হাজার টাকার কোম্পানীর কাগজ নিয়ে গেছিল।

প্রশ্ন : 'তোমার সেকেলে ব্যান” কে, কাকে বলেছে? 'ব্যান' কথাটির প্রকৃত তাৎপর্য কি?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি জীবনচন্দ্র, গোকুলচন্দ্রকে বলেছেন। 'ব্যান' কথাটির অর্থ বেয়ান (বেহান > বেয়ান)।

প্রশ্ন : “এঁদের ছেলেতে সন্দ হবে”—কে কাকে বলেছে? 'ছেলেতে সন্দ' হবার কারণ কি?

উত্তর : “প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি জীবনচন্দ্র, গোকুলচন্দ্ৰকে বলেছেন।বর্তমানের বেয়ানরা লেখাপড়া শিখছে, গাউন পরিধান করে অবাধ মেলামেশা করছেন। তাই তাদের গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানদের সঠিক পিতৃপরিচয় নাও থাকতে পারে। তাই এই কথা জীবনচন্দ্র, গোকুলচন্দ্রকে বলেছেন।

প্রশ্ন “তুমি কি ভাল বোঝ ভাই তাই কর”– কে, কাকে বলেছে? উক্তিটির তাৎপর্য কি?

প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি জীবনচন্দ্র, গোকুলচন্দ্রকে বলেছে।

উত্তর : ব্রাহ্মসভার সদস্যরা মদ্যপানবিরোধী এবং বেশ্যাচর্চার সর্বৈব বিরোধী ছিলেন। তাঁরা নানারকম জনকল্যাণমূলক কাজ করতেন। গোকুলচন্দ্র ব্রাহ্ম ছিলেন। কিন্তু জীবনাচন্দ্র প্রথমে সে ব্রাহ্মকেই সমর্থন করেন এবং নিজের ছেলের আচরণ বদলানোর জন্য গোকুলচন্দ্রর কাছে ঐ কথাটি বলেন।

প্রশ্ন : “আমি তাকে শোধবার, কি সে আমায় বেড়াবে”—আমি' ও 'সে' কে কে?
উত্তর : ‘আমি’ ও ‘সে’ যথাক্রমে গোকুলচন্দ্র এবং অটলবিহারী।

প্রশ্ন : 'দেশশুদ্ধ লোক তোমার নিন্দে কচ্চে বক্তা কে? দেশশুদ্ধ লোক কার কেন ‘নিন্দা কচ্চে’?

উত্তর : বক্তা এখানে গোকুলচন্দ্র। অটল সদ্বংশজাত সন্তান এবং অতুল ঐশ্বর্যের অধিকারী কিন্তু সে সদাচারভ্রষ্ট মাতালের সঙ্গে বাস করে বলে অলোক ‘দেশশুদ্ধ লোক নিন্দা কচ্ছে।

প্রশ্ন : “কেন বাবার সমুখে বলতে বুঝি লজ্জা হয়”— কে কাকে বলেছে? লজ্জার বিষয়টি কি?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি অটলবিহারী গোকুলচন্দ্রকে বলেছে। ‘লজ্জার বিষয়টি' হল—গোকুলচন্দ্র বিশ্বনাথ লাহাদের দোকানে মদ খেত তাই সে অটলকে কিভাবে মদ ছাড়ার কথা বলে? এই প্রসঙ্গে বক্তা এই মন্তব্যটি করেছে।

প্রশ্ন : “সে পাজি ব্যাটার কথা ছেড়ে দাও"—পাজি ব্যাটা কে? সে কেন পাঞ্জি.

 উত্তর : ‘পাজি ব্যাটা’ এখানে নিমচাঁদ। সে পাজি, কারণ সে বলেছে সুরাপান নিবারণ সভার বিপরীতে পরিণয় নিবারণী সভা স্থাপন করার কথা।

প্রশ্ন : নকুলেশ্বর পেশায় কি ছিল?

উত্তর : নকুলেশ্বর পেশায় ছিলেন হাইকোর্টের উকিল।

প্রশ্ন 'তারা গিয়ে নাম লেখাক'—বক্তা কে? তিনি কাদের কে, কোথায় নাম লেখাতে বলেছেন?

উত্তর : বক্তা এখানে অটলবিহারী। যাদের শ্যাম্পেন কেনবার ক্ষমতা নেই, যাদের টাকা নেই, যারা ধেনো খেয়ে মরে তাদেরই সুরাপান নিবারণী সভায় নাম লেখাতে বলেছেন।
প্রশ্ন : “যে দিন অবসর পান সেই দিন যাব”– কে কাকে কোথায় যাবার কথা। বলেছে?

উত্তর : ‘অটলবিহারী গোকুলনন্দকে অবসর পেয়ে অফিসে কাজ শিখতে যাবার কথা বলেছে।

প্রশ্ন ঃ “আজ আমি তাকে ছেড়ে দিই, আর উনি গিয়ে ভরতি হন”—প্রসঙ্গটি তাৎপর্য লেখো? /

উত্তর : অটলবিহারীকে গোকুলনন্দ বেশ্যাসঙ্গ ত্যাগ করার কথা বললে, তিনি অটলবিহারীকে শোনার দশ হাজার টাকা ভেঙ্গে সে কাঞ্চনের ঘর সাজিে দিয়েছিল। তাই এখন ছেড়ে দিয়ে গোকুলানন্দ কি ভরতি হবে কাঞ্চনের ঘরে। এই প্রসঙ্গে এই উক্তি করেছেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks For Contact 😊😊

নবীনতর পূর্বতন