বাংলা সদবার একাদশী নাটকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর পর্ব প্রথম

প্রশ্ন : 'সধবার একাদশী' প্রহসনের মূল চরিত্রের নাম কি?
উত্তর : 'সধবার একাদশী' প্রহসনের মূল চরিত্রের নাম নিমচাঁদ।

প্রশ্ন : দীনবন্ধুর 'সধবার একাদশী' কোন নাটকের আদর্শে রচিত হয়েছিল?
উত্তর : দীনবন্ধুর 'সধবার একাদশী’ মধুসূদন দত্তের একেই কি বলে সভ্যতা' নাটকের আদর্শে রচিত।

প্রশ্ন : 'সধবার একাদশী'র প্রথম অভিনয় কবে, কোথায় হয়?

উত্তর : ১৮৬৯ খ্রীঃ অক্টোবর মাসে শারদীয়া পূজার রাত্রিতে বাগবাজার মুখুজ্যেপাড়ায় প্রাণকৃষ্ণ হালদারের বাড়িতে ‘সধবার একাদশী' প্রথম অভিনয় হয়।


প্রশ্ন : 'সধবার একাদশী'র কোন্ চরিত্রে গিরিশচন্দ্র অভিনয় করে রঙ্গমঞ্চে আসেন?

উত্তর : ‘সধবার একাদশী'র নিমচাঁদ চরিত্রে গিরিশচন্দ্র অভিনয় করে রঙ্গমঞ্চ আসেন।

বাংলা সদবার একাদশী নাটকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর 



প্রশ্ন : 'সধবার একাদশী'র কোন্ অভিনয়ে, কোথায় নাট্যকার স্বয়ং উপস্থিত ছিলেন?
উত্তর : প্রহসনের চতুর্থ অভিনয়ে দেওয়ান রায় রমাপ্রসাদ মিত্র বাহাদুরের শ্যামবাজারের বাড়িতে নাট্যকার উপস্থিত ছিলেন।

প্রশ্ন : 'সধবার একাদশি'র নিমচাদের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যে তুলনীয় চরিত্র কোনটি?
উত্তর : 'সধবার একাদশী নিমাই চাঁদের সঙ্গে বাংলা সাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। ‘ষোড়শী’ নাটকের জীবনান্দর সঙ্গে তুলনা করা যায়।


প্রশ্ন : 'সধবার একাদশী' নাটকের গোত্র বিচার কর?

উত্তর : 'সধবার একাদশী' মূলত একটি প্রহসন। তবে এতে ব্যঙ্গের ভাব সর্বাধিক থাকার দরুণ একে 'স্যাটায়ার'ও বলা যেতে পারে।

প্রশ্ন : 'সধবার একাদশী' নাটকে নাট্যকার কোন্ ইংরাজী সাহিত্যের সাহিত্যিকদের স্মরণ করেছেন?

উত্তর : সধবার একাদশী’ নাটকে নাট্যকার Shakespeare, Elihu Burret এবং Willam Collins কে স্মরণ করেছেন।

প্রশ্ন : সধবার একাদশী নাটকে নাট্যকার শেক্সপীয়ারের কোন নাটকের কার উদ্ধৃতি কেন ব্যবহার করেছেন?

উত্তর : দীনবন্ধু মিত্র শেক্সপীয়ারের OTHELLO (ওথেলো) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্কের তৃতীয় দৃশ্য থেকে লেফটেনান্ট ‘ক্যাসিও’র সংলাপ ব্যবহার করেছেন। কারণ, সধবার একাদশী’ নাটকে মদ্যপান কতটা মারাত্মক তা দেখানো হয়েছে এবং 'ওথেলো'র ক্যাসিও চরিত্রটিরও অতিরিক্ত মদ্যপানে বাড়াবাড়ি হয়ে চাকরি চলে যায়।

প্রশ্ন দীনবন্ধু মিত্র Elihu Burret-এর যে উদ্ধৃতিটি ব্যবহার করেছেন তার বাংলা অর্থ কি?
উত্তর : বাংলা অর্থ হল 'যা নেশা ধরিয়ে দেয়, সেই রকম কোনো বস্তুকে স্পর্শ করা, আস্বাদান করা, ঘ্রানগ্রহণ করা এবং পান করা কখনোই উচিত নয়।'

প্রশ্ন : 'সধবার একাদশী' নাটকে নাট্যকার কলিন্স-এর উদ্ধৃতিটি কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন? এর সহজ বাংলায় অর্থটি লেখ।

উত্তর : ‘সধবার একাদশী' নাটকে নাট্যকার কলিন্স এর উদ্ধৃতিটি 'The Passions কাব্যগ্রন্থ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। এর সহজ বাংলা অর্থ হল—“আঃ। নষ্ট হয়ে যাওয়া এমন কেন আকর্ষণীয় মনে হয়? অথবা নষ্ট হয় যাওয়ার টানে মোহগ্রস্থ মানুষ কেন এত সহজেই প্রতারিত হতে থাকে?” :

প্রশ্ন:-  'সধবার একাদশী' নাটকটির প্রথম মহলায় অভিনয়ের শিক্ষক হিসাবে কে  নিযুক্ত ছিলেন?
উত্তর : ‘সধবার একাদশী' নাটকটির প্রথম মহলায় অভিনয়ের শিক্ষক হিসাবে গিরিশচন্দ্র ঘোষ নিযুক্ত ছিলেন সহকারী শিক্ষক হিসাবে অর্ধেন্দুশেখর মুস্তাফী নিযুক্ত ছিলেন।

প্রশ্ন : 'সধবার একাদশী' নাটকটি করে প্রথম ন্যাশনাল থিয়েটারে অভিনয় হয়?
উত্তর ঃ ‘সধবার একাদশী' নাটকটি ১৮৭২ খ্রীঃ ২১ ডিসেম্বর প্রথম ন্যাশনাল থিয়েটারে অভিনয় হয়।


প্রশ্ন : 'সধবার একাদশী' প্রহসনের প্রথম অঙ্কের প্রথম গর্ভান্তর দৃশ্যপটটি কি কি বর্ণনা কর?

উত্তর : সধবার একাদশী প্রহসনের প্রথম অঙ্কের প্রথম গর্ভাঙ্কের দৃশ্যপটটি হল নকুলেশ্বরের উদ্যানের বৈঠকখানা। এটি কাকুড়গাছায় অবস্থিত।

প্রশ্ন : 'পানায়, খায় না'—বক্তা কে? কার সম্পর্কে এই উক্তি করা হয়েছে? 'পানায়' কথার অর্থ কি?

উত্তর : বক্তা নিমেদত্ত। অটবিহারীর মদ্যপান নিয়ে এই উক্তি করেছেন। গোরু দোহার আগে বাঁটে দুধ আনার জন্য বাছুরকে কিছুক্ষণ বাঁট চুষতে দেওয়া হয়, এর ফলে গোরুর বাঁটে দুধ আসে। এই প্রক্রিয়াকরণই হলো ‘পানানো’। অটলবিহারী তেমনি মদ ছোঁয় কিন্তু পান করে না।

প্রশ্ন : “না হে সভায় দেশের অনেক মঙ্গল হয়েছে”—বক্তা কে? সভার নাম কি? সভাটির বিবরণ দাও।

উত্তর : বক্তা এখানে নকুলেশ্বর। সভার নাম 'সুরাপান নিবারনী সভা'। অত্যধিক মদ্যপানের বাড়াবাড়ি দেখে শহর কলকাতায় তৎকালীন সমাজসেবীর। ১৮৬৩ খ্রীঃ Temperance Society নামে একটি 'সুরাপান নিবারণী সভা' করেন। এর প্রধান ছিলেন প্যারীচরণ সরকার।

প্রশ্ন : “ঠক বাচ্‌তে গাঁ উজাড়”—বক্তা কে? সে কোন্ প্রসঙ্গে একথা বলেছে?

উত্তর : বক্তা এখানে নিমেদত্ত।
সুরাপান নিবারণী সভা' হলেও অনেকেই মদ্যপান ছাড়তে পারেনি। অনেকেই অনুরোধ পড়ে প্রতিজ্ঞাপত্রে স্বাক্ষর করেন কিন্তু মদ দেখলেই এগিয়ে আসে। সেইরকম মানুষদের সংখ্যা গণনা করতে গিয়ে নিমেদত্ত এই প্রবাদটির কথা বলেন।

প্রশ্ন “তবে তাঁকে নাম লেখাতে বলো"-বক্তা কে? “তাঁকে বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : বক্তা নিমেদত্ত। “তাঁকে” বলতে নকুলেশ্বরের স্ত্রী বা নিমেদত্তর বোনের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন : 'অষ্টম হেনরির ক্যাথারাইন পরিত্যাগের ন্যায় মদ ছেড়ে দিলেন কে? প্রসঙ্গটির তাৎপর্য লেখো।

উত্তর : বক্তা নিমেদত্ত।
ইংলন্ডের রাজা ছিলেন অষ্টম হেনরি। তাঁর স্ত্রী ক্যাথারিনের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে পোপের সঙ্গে মতবিরোধ হয়। পোপকে শেষাবধি অস্বীকার করে ধর্ম ব্যাপারে রাজা নিজের কর্তৃত্ব বাজার রাখেন এবং স্ত্রী ক্যাথরিনকে ত্যাগ করেন। নিমেদত্তও শরীর খারাপের জন্য মদ্যপানের বিরুদ্ধে যাননি। তাই তিনি অষ্টম হেনরির তুলনা টেনে এনে তাকে ‘নেমকহারা বলেছেন।

প্রশ্ন 'ও সকল রোগ মদেতেই জন্মে'-বক্তা কে? 'ও সকল রোগ' বলতে কি বোঝানো হয়েছে?
উত্তর : বক্তা এখানে নকুলেশ্বর। 'ও সকল রোগ’ বলতে মূল পীলে, পাত প্রভৃতি মদ্যপান করে জন্মানো রোগের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন “যে মাহাত্মার অনুকূলতায় জাতিভেদ উঠয়ে দিলেম”—বক্তা কে? মহাত্মা বলে কাকে সম্বোধন করা হয়েছে? ‘জাতিভেদ' উঠিয়ে দেবার তাৎপর্য কি?

উত্তর : বক্তা এখানে নিমেদত্ত। 'মহাত্মা' বলে মদকে সম্বোধন করা হয়েছে। উনিশ শতকে হিন্দুসমাজে জাতিভেদ প্রথা ছিল কঠোর। একাসনে ভোজন না হলেও 'মদ' এসে এই জাতিভেদ প্রথা তুলে একাসনে মদ্যপান করালো। তাই নিমেদত্ত এই ব্যাঙ্গোক্তি করেছেন।

প্রশ্ন : “The mind and sprit remains”-কোন্ রচনাংশের অন্তর্গত? এখানে বক্তা কে?

উত্তর : উদ্ধৃতিটি Milton এর “Paradise Lost" নামক মহাকাব্যের প্রথম সর্গের ১৩৯-১৪০ সংখ্যক পংক্তি। নাটকে নিমেদত্ত এটি আবৃত্তি করেছে।

প্রশ্ন : 'আমার ভারি অমঙ্গল'- কার কি কারণে অমঙ্গল?

উত্তর : নিমেদত্তর অমঙ্গল। কারণ, 'সুরাপান নিবারণী সভায়' বড়লোকের ছেলেরা নাম লেখালে মদ্য খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং মদ তৈরীও তার সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে। বড়লোকের ছেলেরা মদ ধরলে তারই অনুগামী হয়ে মাতাল বৃদ্ধি হয়। কিন্তু সে ব্যবস্থা উঠে যাওয়ায় নিম্নেত্তদের ধেনো খেয়ে থাকতে হবে। তাই তার ভারি অমঙ্গল।

প্রশ্ন : “Tobe week is miserable..." উদ্ধৃতটি কোন্ মূল রচনাংশের অন্তর্গত?

 উত্তর : উদ্ধৃতটি Milton এর Paradise lost' নামক মহাকাব্যের ১৫৭-১৫৮ সংখ্যক পংক্তি। নাটকে নিমেদত্ত এটি বলেছে। এর অর্থ হল দুর্বল হওয়া দুঃখজনক।

প্রশ্নঃ “তোমার সঙ্গে সভাপতি খুড়োর পরিচয় আছে?”- কে, কাকে বলেছে? ‘সভাপতি খুড়ো' কে?
উত্তর : প্রশ্নোক্ত উদ্ধৃতিটি নিমেদত্ত নকুলেশ্বরকে করেছে। 'সভাপতি খুড়ো এখানে প্যারীচরণ সরকার।

প্রশ্ন নিমেদত্ত সভাপতি খুড়োর কাছে কোন্ সভা স্থাপনের প্রস্তাব করেন?
উত্তর : নিমেদত্ত সভাপতি খুড়োর কাছে ‘পরিণয় নিবারণী' নামে সভা স্থাপনের প্রস্তাব করেন।

প্রশ্ন : “সুতরাং বিবাহটা অতি ভয়ঙ্কর”–বক্তা কে? প্রসঙ্গটির যথার্থতা লেখো।

উত্তর : বক্তা নিমেদত্ত বিবাহটা ভয়ঙ্কর কারণ, কামিনী স্ত্রীলোক কামতৃষ্ণা চরিতার্থ করার জন্য নিজের স্বামীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উপপতিদের সঙ্গে সহবাস করে। এতে পত্নী কর্তৃক পতিই বিনাশিত হচ্ছে। তাই নিমেদত্ত এই কথা বলেছে।

প্রশ্ন : বিচ্ছেদ মিলনের সুখ পাবি”—বক্তা কে? বক্তা প্রসঙ্গটির কেন এনেছেন?

উত্তর : বক্তা এখানে নিমেদত্ত। নিমেদত্ত কোনো অবস্থাতেই মদ্যপান ত্যাগ করতে পারবে না। তাই মদ খেয়ে পীড়া হলে মেডিক্যাল সায়েন্সের দরুন সেই পীড়া সারিয়ে আবার মদ খেতে দ্বিধান্বিত হবে না। এই মদ্যপানের মেডিক্যাল বিচ্ছেদ ও মিলনে সুখ পাবার কথা বলেছেন।

প্রশ্ন : “Rich the treasure...” উদ্ধৃতটি কোন্ মূল রচনাংশের অন্তর্গত?

 উত্তর : ইংরেজ কবি Dryden-এর Alexander's Feast কবিতায় ৫৮-৬০ পংক্তি থেকে নিমচাঁদ এটি আবৃত্তি করেছেন। উদ্ধৃতিটির মাধ্যমে বিরহ মিলনের মাধুর্য বোঝানো হয়েছে মদ্যপান এবং পান বিরতির উপমা দিয়ে।

প্রশ্ন : “তিনি বিশ বৎসরে যে কারগো বোঝাই নিয়েছেন"—তিনি কে? 'কারগো' কথার অর্থ কি?

উত্তর : “তিনি' বলেন রামসুন্দরবাবু। 'কারগো' কথার অর্থ মাল বা দ্রব্য। রামসুন্দরবাবু যে পরিমাণ মদ্যপ ছিলেন তিনি এখন মদপান না করলেও সারা জীবন জাবর কেটে চলে যাবে। নিমেদত্ত ব্যাঙ্গার্থে এই উক্তি করেছেন।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks For Contact 😊😊

নবীনতর পূর্বতন