WBBSE Class 9 Bengali Suggestion 2021 || Daily Bengali suggestions question MCQGK


WBBSE Class 9 Bengali Suggestion 2021



 • ‘হীরুই সেবার ফার্স্ট হইয়াছিল।— হীরু কে? হীরুর ফার্স্ট হওয়া সম্পর্কে চন্দ্রনাথ কী মন্তব্য করেছিল? সংক্ষেপে হীরুর বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর/

 হীরু কে হয়েছিল। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের একজন উল্লেখযোগ্য চরিত্র হীরু, যে গল্পকথক নরেশের সহপাঠী এবং বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিল।



 ॥॥ চন্দ্রনাথের ধারণা তাকে বঞ্চিত করে হীরুকে প্রথম করানো হয়েছে। হীরুর কাকা বিদ্যালয়ের সেক্রেটারি হওয়ার ফলে হীরুকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। স্কুলের জনৈক মাস্টারমশাই হীরুকে প্রাইভেটে পড়ান বলে তিনি প্রশ্নপত্র হীরুর থেকে গোপন রাখতে পারেননি। তা ছাড়া আরও দু-একজন মাস্টারমশাই খাতা মূল্যায়নের সময় অযাচিতভাবে হীরুর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেছেন। মাস্টারমশাই আগে বলে দেওয়ার পরেও হীরু কয়েকটি অঙ্ক পারছিল সেক্ষেত্রে হীরুর অনুরোধে চন্দ্রনাথ নিজের খাতা থেকে তিনটি অঙ্ক হীরুকে টুকতে দিয়েছিল। এভাবেই হীরু প্রথম হয়েছে। অর্থাৎ হীরু তার নিজস্ব যোগ্যতায় প্রথম হয়নি, এক্ষেত্রে অন্যান্য প্রভাব কার্যকর হয়েছে বলে চন্দ্রনাথ মনে করেছে। 


 ॥ গল্পকথকের উক্তির মধ্যে থেকেই মূলত হীরুর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। হীরু লাবণ্যময় দেহ ও আয়তকোমল দৃষ্টিশক্তির অধিকারী। হীরুর কথা মনে করে আকাশের দিকে তাকালে কথকের শুকতারার কথা মনে পড়ে—‘এমনই হীরুর বৈশিষ্ট্য প্রদীপ্ত কিন্তু সে দীপ্তি কোমল স্নিগ্ধ। হীরু মেধাবী, কোমল-ভদ্র-নম্র স্বভাবের অধিকারী কিশোর। সে তার স্কলারশিপ পাওয়ার আনন্দ সকলের মধ্যেই ভাগ করে নিতে চেয়েছে। তাই বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এমনকি সহপাঠী চন্দ্রনাথ তাকে চিঠিতে বিদ্রুপ করলেও হীরু সেই চিঠিটিই চন্দ্রনাথের স্মৃতিচিহ্নরূপে রেখে দিতে চেয়েছে। এ থেকে বন্ধুর প্রতি তার কৃতজ্ঞ চিত্তের প্রমাণ পাওয়া যায়। সে ধীরস্থির বন্ধুবৎসল এক কিশোর চরিত্র।


CLASS 9 BENGALI SUGGESTIONS QUESTION WBBSE


এমন বুকে দাগ কাটা দৃষ্টি আমার জীবনে আমি খুব কমই দেখিয়াছি।— বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির যে রূপ বর্ণনা ‘চন্দ্রনাথ” রচনায় ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় লেখো।


উত্তর/ উদ্ধৃত অংশটির বস্তা হলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের গল্পকথক নরেশ। বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় দ্বিতীয় হওয়ায় সেই পুরস্কার নিতে অস্বীকার করে চন্দ্রনাথ বিদ্যালয়ে পত্র প্রেরণ করে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে এই খবর জেনে, চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথবাবু চন্দ্রনাথকে নির্দেশ দেয়— সে যেন নিজের পত্র প্রত্যাহার করে প্রধান শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। কিন্তু দাদার নির্দেশও অমান্য করে চন্দ্রনাথ। এমনকি দাদা তাকে সংসার থেকে পৃথক করলেও নির্বিকারচিত্তে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে চন্দ্রনাথ বলে— ‘বেশ’। ভাইয়ের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ মেনে নিতে পারছিলেন না নিশানাথবাবু। দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে সংবরণ করার চেষ্টা করলেও তাঁর চোখের দৃষ্টিতে ফুটে উঠেছিল ক্রোধ ও বেদনার সংমিশ্রণ, যা গল্পকথক নরেশের মনেও গভীর রেখাপাত করেছিল। এই কারণেই বক্তা তথা গল্পকথক প্রশ্নের এই কথাটি বলেছেন।


|| চন্দ্রনাথের আচরণ নিশানাথবাবুর কাছে এতটাই অস্বাভাবিক লেগেছিল যে শান্ত-নির্বিরোধী মানুষটির মুখ মুহূর্তের মধ্যে বেদনাবিভোর হয়ে দেখা দিয়েছিল। ভাইয়ের সিদ্ধান্তকে তিনি কখনোই সমর্থন করেননি, তার দ্বিতীয় হওয়াটাকে তারই অযোগ্যতা বলে তিনি তিরস্কৃত করেছেন ভাইকে। ভাইয়ের ‘বেশ’ উত্তরটিতে তার মনে যে ক্ষত তৈরি করেছিল তা কথকের দৃষ্টিতে ধরা অসহায়তার প্রকাশ পড়েছে। তাই কথক বলেছে— 'দাদা মুখ তুলিয়া সম্মুখের জানালার ভিতর দিয়া আখড়ার তমাল গাছটার দিকে চাহিলেন। অনেকটা এমন যেন তিনি চোখের জল লুকোনোর চেষ্টা করছেন। চন্দ্রনাথের আচরণে নিশানাথবাবুর চরম অসহায়তার চিত্রই প্রকাশিত হয়েছে।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Thanks For Contact 😊😊

নবীনতর পূর্বতন