WBBSE Class 9 Bengali Suggestion 2021 || Daily Bengali suggestions question MCQGK

WBBSE class 9 question , west bengal bengali department question, bengali suggestions question , বাংলা SUGGESTIONS , MCQGK question , class nine


WBBSE Class 9 Bengali Suggestion 2021

WBBSE class 9 SUGGESTIONS 2021 

কলিঙ্গদেশের ঝাড় বৃষ্টি বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর


প্রশ্ন ‘কলিঙ্গে সোঙার সকল লোক যে জৈমিনি। - জৈমিনি কে? তাঁকে লোক স্মরণ করে কেন? (বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাই স্কুল)

উত্তর/ ‘জৈমিনি’ একজন মুনিঋষি। তিনি ‘পূর্বমীমাংসা’ নামক দর্শনশাস্ত্রের রচয়িতা, তিনি মহাভারতের রচয়িতা ব্যাসদেবের শিষ্য। ॥ দেবী চণ্ডীর মায়াতে কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্র নেমে আসে। কালো মেঘে ছেয়ে যায় কলিঙ্গের সমগ্র আকাশ।
জৈমিনিকে স্মরণের
তারপর শুরু হয় বজ্রপাত এবং মুশলধারায় বৃষ্টিপাত। উচ্চনাদী মেঘের গর্জনে প্রজারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। জৈমিনি হলেন ‘বজ্রনিবারক’ ঋষি। মানুষের বিশ্বাস ছিল ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করলে ঋষির কৃপায় বজ্রপাত নিবারিত হবে। তাই কলিঙ্গের প্রজারা ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকেন।

প্রশ্ন ‘হুড় হুড় দুড় দুড় শুনি ঝন ঝন।— উদ্ধৃতাংশটির মাধ্যমে কবি কোন্ ছবি তুলে ধরেছেন?

উত্তর কলিঙ্গদেশের ঈশানকোণে যে কালো মেঘ দেখা দিয়েছিল তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, উত্তুরে বাতাসের সংস্পর্শে তা ভয়ংকরভাবে বজ্রগর্ভ হয়ে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হয়ে যায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। ধুলোতে ঢেকে যায় সকল সবুজ, উলটে পড়তে থাকে ছবি খেতের শস্য। ক্রমে প্লাবিত হয় সে দেশ। বজ্রের গগনবিদারী শব্দে কেউ কারও কথাও শুনতে পায় না। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ তথা ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডবের ভয়াবহ চিত্রই কবি তুলে ধরেছেন প্রশ্নের অংশে।

প্রশ্ন ‘নিরবধি সাত দিন বৃষ্টি নিরন্তর। - কোথায়  সাত দিন বৃষ্টির ফলে কী হয়েছিল?

উত্তর কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত 'কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি' নামক কবিতা থেকে জানা যায় যে—কলিঙ্গদেশে নিরবধি সাত দিন বৃষ্টিপাত হয়েছিল।
॥ একটানা সাত দিন বৃষ্টিপাতের ফলে একদিকে যেমন শস্যহানি হয়, অন্যদিকে সমগ্র কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সাপেরা গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে এসে জলে ভেসে বেড়ায়। সঞ্চিত সকল শস্যে পচন ধরে। শিলাবৃষ্টিতে ঘরের চাল ফুটো হয়, জলপ্লাবনে বাড়িঘরগুলি ভেঙে পড়তে থাকে।

প্রশ্ন 'চণ্ডীর আদেশ পান বীর হুনমান। – চণ্ডী হনুমানকে কী আদেশ দিয়েছিলেন? হনুমান কী করেছিলেন?

উত্তর/ দেবী চণ্ডী বীর হনুমানকে কলিঙ্গদেশকে বিধ্বস্ত করার আদেশ দিয়েছিলেন।
॥ দেবী চণ্ডীর মায়ায় কলিঙ্গদেশের ওপরে নেমে এসেছিল ভয়ানক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। নিরন্তর সাত দিন বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গদেশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল।
হনুমানের কীর্তি
তার ওপরে দেবীর আদেশে বীর হনুমান কলিঙ্গের ধ্বংসসাধনে মগ্ন হয়েছিলেন। বীর হনুমান সেদেশের সকল মঠ, মন্দির ভেঙে চুরমার করতে থাকেন। হনুমানের কীর্তিকলাপের জন্য কলিঙ্গের সমস্ত মঠ ও মন্দির খেলনার মতো গুঁড়িয়ে যেতে থাকে।


প্রশ্ন ‘ধুলে আচ্ছাদিত হইল যে ছিল হরিত উদ্ধৃতাংশটি কোন্ প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর দেবী চণ্ডীর ছলনায় সারা আকাশ কালো মেঘ করে,  কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড় বইতে শুরু করে। তার ফলে ধুলোয় ঢেকে যায় সবুজ গাছপালা। এই প্রসঙ্গেই উদ্ধৃতিটি ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রশ্ন আচ্ছাদিত হওয়া বলতে কী বোঝ?
উত্তর আচ্ছাদিত হওয়া বলতে ঢেকে যাওয়া বা আবৃত হওয়াকে বোঝায়।

প্রশ্ন
‘উলটিয়া পড়ে শস্য-শস্য কেন উলটিয়া পড়ে?
উত্তর দেবী চণ্ডীর ছলনায় কলিঙ্গদেশের বুকে নেমে আসে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি। সেই ঝড়-বৃষ্টির আঘাতেই জমির শস্য বা খেতের ফসল উলটে পড়তে থাকে।

প্রশ্ন প্রজারা চমকে ওঠে কেন?
উত্তর কৃষকের বেঁচে থাকার প্রধান উপকরণ হল উৎপাদিত ফসল। নিরন্তর সাত দিন ঝড়-বৃষ্টির ফলে কলিঙ্গদেশের ফসল উলটে পড়তে থাকে। বিপদের এরূপ আকস্মিকতায় প্রজারা চমকে ওঠে।


 • ‘হীরুই সেবার ফার্স্ট হইয়াছিল।— হীরু কে? হীরুর ফার্স্ট হওয়া সম্পর্কে চন্দ্রনাথ কী মন্তব্য করেছিল? সংক্ষেপে হীরুর বৈশিষ্ট্য লেখো।

উত্তর/

 হীরু কে হয়েছিল। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের একজন উল্লেখযোগ্য চরিত্র হীরু, যে গল্পকথক নরেশের সহপাঠী এবং বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিল।


 ॥॥ চন্দ্রনাথের ধারণা তাকে বঞ্চিত করে হীরুকে প্রথম করানো হয়েছে। হীরুর কাকা বিদ্যালয়ের সেক্রেটারি হওয়ার ফলে হীরুকে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। স্কুলের জনৈক মাস্টারমশাই হীরুকে প্রাইভেটে পড়ান বলে তিনি প্রশ্নপত্র হীরুর থেকে গোপন রাখতে পারেননি। তা ছাড়া আরও দু-একজন মাস্টারমশাই খাতা মূল্যায়নের সময় অযাচিতভাবে হীরুর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেছেন। মাস্টারমশাই আগে বলে দেওয়ার পরেও হীরু কয়েকটি অঙ্ক পারছিল সেক্ষেত্রে হীরুর অনুরোধে চন্দ্রনাথ নিজের খাতা থেকে তিনটি অঙ্ক হীরুকে টুকতে দিয়েছিল। এভাবেই হীরু প্রথম হয়েছে। অর্থাৎ হীরু তার নিজস্ব যোগ্যতায় প্রথম হয়নি, এক্ষেত্রে অন্যান্য প্রভাব কার্যকর হয়েছে বলে চন্দ্রনাথ মনে করেছে। 

 ॥ গল্পকথকের উক্তির মধ্যে থেকেই মূলত হীরুর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমরা জানতে পারি। হীরু লাবণ্যময় দেহ ও আয়তকোমল দৃষ্টিশক্তির অধিকারী। হীরুর কথা মনে করে আকাশের দিকে তাকালে কথকের শুকতারার কথা মনে পড়ে—‘এমনই হীরুর বৈশিষ্ট্য প্রদীপ্ত কিন্তু সে দীপ্তি কোমল স্নিগ্ধ। হীরু মেধাবী, কোমল-ভদ্র-নম্র স্বভাবের অধিকারী কিশোর। সে তার স্কলারশিপ পাওয়ার আনন্দ সকলের মধ্যেই ভাগ করে নিতে চেয়েছে। তাই বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এমনকি সহপাঠী চন্দ্রনাথ তাকে চিঠিতে বিদ্রুপ করলেও হীরু সেই চিঠিটিই চন্দ্রনাথের স্মৃতিচিহ্নরূপে রেখে দিতে চেয়েছে। এ থেকে বন্ধুর প্রতি তার কৃতজ্ঞ চিত্তের প্রমাণ পাওয়া যায়। সে ধীরস্থির বন্ধুবৎসল এক কিশোর চরিত্র।


CLASS 9 BENGALI SUGGESTIONS QUESTION WBBSE


এমন বুকে দাগ কাটা দৃষ্টি আমার জীবনে আমি খুব কমই দেখিয়াছি।— বক্তার এমন মন্তব্যের কারণ কী? উদ্দিষ্ট ব্যক্তির যে রূপ বর্ণনা ‘চন্দ্রনাথ” রচনায় ফুটে উঠেছে তা নিজের ভাষায় লেখো।


উত্তর/ উদ্ধৃত অংশটির বস্তা হলেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘চন্দ্রনাথ’ গল্পের গল্পকথক নরেশ। বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় দ্বিতীয় হওয়ায় সেই পুরস্কার নিতে অস্বীকার করে চন্দ্রনাথ বিদ্যালয়ে পত্র প্রেরণ করে। স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে এই খবর জেনে, চন্দ্রনাথের দাদা নিশানাথবাবু চন্দ্রনাথকে নির্দেশ দেয়— সে যেন নিজের পত্র প্রত্যাহার করে প্রধান শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেয়। কিন্তু দাদার নির্দেশও অমান্য করে চন্দ্রনাথ। এমনকি দাদা তাকে সংসার থেকে পৃথক করলেও নির্বিকারচিত্তে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে চন্দ্রনাথ বলে— ‘বেশ’। ভাইয়ের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ মেনে নিতে পারছিলেন না নিশানাথবাবু। দাঁতে দাঁত চেপে নিজেকে সংবরণ করার চেষ্টা করলেও তাঁর চোখের দৃষ্টিতে ফুটে উঠেছিল ক্রোধ ও বেদনার সংমিশ্রণ, যা গল্পকথক নরেশের মনেও গভীর রেখাপাত করেছিল। এই কারণেই বক্তা তথা গল্পকথক প্রশ্নের এই কথাটি বলেছেন।

|| চন্দ্রনাথের আচরণ নিশানাথবাবুর কাছে এতটাই অস্বাভাবিক লেগেছিল যে শান্ত-নির্বিরোধী মানুষটির মুখ মুহূর্তের মধ্যে বেদনাবিভোর হয়ে দেখা দিয়েছিল। ভাইয়ের সিদ্ধান্তকে তিনি কখনোই সমর্থন করেননি, তার দ্বিতীয় হওয়াটাকে তারই অযোগ্যতা বলে তিনি তিরস্কৃত করেছেন ভাইকে। ভাইয়ের ‘বেশ’ উত্তরটিতে তার মনে যে ক্ষত তৈরি করেছিল তা কথকের দৃষ্টিতে ধরা অসহায়তার প্রকাশ পড়েছে। তাই কথক বলেছে— 'দাদা মুখ তুলিয়া সম্মুখের জানালার ভিতর দিয়া আখড়ার তমাল গাছটার দিকে চাহিলেন। অনেকটা এমন যেন তিনি চোখের জল লুকোনোর চেষ্টা করছেন। চন্দ্রনাথের আচরণে নিশানাথবাবুর চরম অসহায়তার চিত্রই প্রকাশিত হয়েছে।